স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দিয়া বাজারের ভয়াবহ ভাঙনের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর হয়। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও তৎপরতা দেখা যায়।
এর আগে গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বড়দিয়া খেয়াঘাটের পশ্চিম পাশে ব্লক দিয়ে বাঁধানো এলাকার প্রায় ৪০ হাত অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে চার থেকে পাঁচটি চায়ের দোকান ও দুটি গুদামঘর নদীগর্ভে চলে যায়। পরদিন সোমবারও খেয়াঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। এতে আরও তিন থেকে চারটি গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকস্মিক এই ভাঙনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। এ সময় ১৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বড়দিয়া বাজারের ইতিহাসে নদীভাঙন নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতে ভয়াবহ ভাঙনে বাজারটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বাজারটি আবারও ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেই পুরোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বড়দিয়া বাজার শুধু একটি ব্যবসাকেন্দ্র নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। এখানে রয়েছে বহুতল ভবন, মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, কলেজসহ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হলে অসংখ্য ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে।
সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের জরুরি উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বাজারের অস্তিত্ব রক্ষায় স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত কারিগরি সমীক্ষা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে উঠবে। রক্ষা পাবে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজার, নিরাপদ থাকবে শত শত ব্যবসায়ী ও পরিবারের জীবিকা।


























































এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।