
অবহেলা আর সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনা, অস্তিত্ব রক্ষায় গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল
সাত বছর বেতন নেই, ভাঙা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান—ধুঁকছে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

মুহূর্তের অসতর্কতায় নিভে গেল শিশুর জীবন, সাইফার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার।
বাড়ির উঠান থেকে নিখোঁজ, পাশের পুকুরে মিলল দুই বছরের সাইফার নিথর দেহ।
পড়তে পারেন

মায়ের সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল মাত্র দুই বছরের শিশু সাইফা খানম। মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছাগলকে গাছের পাতা খাওয়াচ্ছিল সে। চারপাশে ছিল পরিচিত পরিবেশ, আর মায়ের স্নেহমাখা উপস্থিতি। কিন্তু একটি ফোনকলের কারণে মা সামান্য সময়ের জন্য ঘরে যাওয়ার পরই ঘটে যায় হৃদয়বিদারক ঘটনা। মায়ের চোখের আড়াল হতেই নিখোঁজ হয়ে যায় ছোট্ট সাইফা। পরিবারের সদস্যদের উদ্বিগ্ন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি শিশুটিকে। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মাত্র দুই বছরের শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাড়ির উঠানে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল শিশু সাইফা খানম। এ সময় তার বাবা ফাহিম খানের ফোন আসে। ফোনে কথা বলার জন্য মা ঘরের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে মেয়েকে আর দেখতে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন। বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে সাইফাকে পাওয়া যায়।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশী মুরাদ খান জানান, সকালে সাইফা তার মায়ের সঙ্গে বাড়ির উঠানে ছিল। শিশুটির বাবা ফোন করায় মা ঘরে গিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর সাইফাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল ছোট্ট সাইফা। যে শিশুর হাসি-খেলায় প্রতিদিন মুখর থাকত বাড়ির আঙিনা, তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মুহূর্তেই থমকে গেছে পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। সন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একটি অসতর্ক মুহূর্ত যে একটি পরিবারের জীবনে কত বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে, সাইফার এই মর্মান্তিক ঘটনা তারই বেদনাদায়ক উদাহরণ। ছোট শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুকুর, জলাশয় ও পানির উৎসের আশপাশে বাড়তি সতর্কতা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে ঘটনাটি।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
মন্তব্য
বাছাই সংবাদ
পহরডাঙ্গার নেতৃত্বে আসতে চান আহমেদ সিকদার মিরাজ
এলাকাবাসীর সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান আহমেদ সিকদার মিরাজ
পড়তে পারেন

তিনি নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আবুল বাশারের কনিষ্ঠ পুত্র এবং পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মো. শফিকুজ্জামান শাফিক সিকদারের ছোট ভাই।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) আসরের নামাজের পর নড়াগাতী থানার মূলশ্রী গ্রামে নিজ বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আগ্রহের কথা জানান।
সভায় আহমেদ সিকদার মিরাজ বলেন, এলাকার মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া পেলে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁর প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়ভাবে তরুণ নেতৃত্বের প্রত্যাশী হিসেবে পরিচিত মিরাজের পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তাঁর বড় ভাই মরহুম শফিকুজ্জামান শাফিক সিকদার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবা এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আহমেদ সিকদার মিরাজ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে কি না, তা আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
মন্তব্য
বাছাই সংবাদ
সাংবাদিক হত্যা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শ্রীপুরে সাংবাদিকদের কর্মসূচি
সাংবাদিক হত্যা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শ্রীপুরে সাংবাদিকদের কর্মসূচি
পড়তে পারেন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিনিধি এস এম জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রীপুর থানা রোডে শ্রীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক অংশ নেন। তাঁরা সাংবাদিক হত্যার বিচার, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, সাংবাদিক এস এম জহিরুল ইসলাম (৩২) শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. শাহজাহানের ছেলে, দৈনিক আমার দেশ-এর শ্রীপুর প্রতিনিধি এবং শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধে হস্তক্ষেপ করার জেরে প্রতিপক্ষের এক নারী তাঁকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জহিরুল ইসলামের দাবি, মামলায় বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
দৈনিক আমাদের সময়-এর শ্রীপুর প্রতিনিধি ও শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন দৈনিক আজকের পত্রিকার শ্রীপুর প্রতিনিধি রাতুল মন্ডল।
এ সময় বক্তব্য দেন দৈনিক নয়া দিগন্তের শ্রীপুর প্রতিনিধি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান, গাজীপুর সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মোজাহিদ, আশরাফুল ইসলাম সরকার, মুনসুরুল ইসলাম ও হাসান হাবিব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা শুধু ব্যক্তির জীবনের ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের জন্যও বিপজ্জনক বার্তা। সাংবাদিক হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনার বিচার না হলে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিকেরা যাতে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা কোনো বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকেরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় থানা রোডে এসে শেষ হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরফান আলী বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় আদালতে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
মন্তব্য
বাছাই সংবাদ
লালনের মানবতাবাদী দর্শন তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে: গোপালগঞ্জের ডিসি
সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় লালনের মানবতাবাদী দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ ডিসির
পড়তে পারেন

মহাত্মা লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, লালন সাঁইজি ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম ও মানবতার প্রতীক। তাঁর দর্শনে জাত-পাত ও ধর্মের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। মানুষের মধ্যেই তিনি মানবতার প্রকৃত পরিচয় খুঁজেছেন। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লালনের দর্শন চর্চা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারেক সুলতান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সালেহ।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও কণ্ঠশিল্পী ফারহান কবীর সিফাতের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা লালনগীতি পরিবেশন করেন। শিল্পীদের একক ও যৌথ পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৮৯০ সালের পয়লা কার্তিক মহাত্মা লালন সাঁইজি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মানবপ্রেম, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন আজও মানুষের মধ্যে গভীরভাবে সমাদৃত।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।





















































এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।