
বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে গর্জে উঠল গোপালগঞ্জ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা
মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের দাবি, গোপালগঞ্জে মানববন্ধন

দূর্গাপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন
পড়তে পারেন

মোঃ রবিউল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো চিফ:
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দূর্গাপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস–২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। “কন্যাশিশুর অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও শুভচ্ছো র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পরিষদ মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুদের কেবল সুরক্ষা নয়, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কন্যাশিশুরা আজকের সমাজের অপরিহার্য অংশ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যতের কারিগর। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কন্যাশিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
মন্তব্য
বাছাই সংবাদ
নড়াইলে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নড়াইলে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
পড়তে পারেন

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নড়াইল সার্কিট হাউজের হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন।
নড়াইল জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. রুস্তম আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরে আলম। প্রশিক্ষণের রিসোর্স পার্সন হিসেবে সাংবাদিকতার নীতিমালা, পেশাগত সততা ও সংবাদ প্রকাশের দায়িত্বশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) মো. আব্দুস সবুর।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সংবাদ পরিবেশনের আগে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হলো সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের যথার্থতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরির প্রতিযোগিতায় অতিরঞ্জিত তথ্য, একপাক্ষিক বক্তব্য কিংবা অসম্পূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চাপে যেন তথ্যের নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
কর্মশালায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের নীতিমালা, তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পদ্ধতি, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং প্রেস কাউন্সিলের আচরণবিধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং রিসোর্স পার্সন তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
কর্মশালায় নড়াইল সদর, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
মন্তব্য
বাছাই সংবাদ
মানবাধিকার রক্ষা ও জবাবদিহির তাগিদ রাজশাহী অধিকার-এর আলোচনায়
পড়তে পারেন

মোঃ রবিউল ইসলাম,রাজশাহী ব্যুরো চিফ:
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগরীর আমানা ফুড ভিলের কনফারেন্স রুমে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিকার-এর রাজশাহী সমন্বয়ক ও সাংবাদিক মঈন উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, মানবাধিকার রক্ষা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল না করে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, কোনো আইন যেন নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মানবাধিকার সুরক্ষার নামে কিংবা নিরাপত্তার যুক্তিতে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক ও কবি সোহেল মাহবুব, রাজ টাইমস এর সম্পাদক শাহ সুফি মুহিব্বুল আরেফিন, দৈনিক নতুন প্রভাতের বার্তা সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী তৌফিক ইমাম পান্না, বাসসের রাজশাহী প্রতিনিধি ওমর ফারুক, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, মানবাধিকার কর্মী সানজিদা ইসলাম, বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী নগর প্রতিনিধি আশিকুর রহমান এবং আইনজীবী নিজাম উদ্দিন, মানবাধিকার কর্মী আরিফ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী এম শামিম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক হাবিবউল্লাহ মোহাম্মদ কাওছারী, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন, মানবাধিকার কর্মী এম শামিম, মানবাধিকার কর্মী কাজি নুরুল আলম, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকারকর্মী জুলইকরাম ফেরদৌস ইবতিদা এবং রিপোর্টার্স অব অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অর্গানাইজেশনের (রোমো) আহ্বায়ক ও মানবাধিকারকর্মী হুজাইফাসহ রাজশাহী জেলার অধিকার’র কর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পূর্তিতে সংগঠনটি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
মন্তব্য
বাছাই সংবাদ
গোপালগঞ্জে অপহরণের তিন দিন পর শিশু উদ্ধার, সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার ১
গোপালগঞ্জ থেকে অপহরণ, সাতক্ষীরা সীমান্তে উদ্ধার ১২ বছরের শিশু
পড়তে পারেন

পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের আকাশ শিকদারের ছেলে সাজিম শিকদার ইয়াছিনকে গত ৬ অক্টোবর রাতে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান দূরসম্পর্কের আত্মীয় মুন্না শিকদার।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আকাশ শিকদার গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে এবং শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালায়।
একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুন্না শিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে প্রথমে ট্রেনযোগে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে তাকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণ ও মানবপাচারের মতো অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

















































অনেক ভালো দিকে আগাচ্ছে