টুঙ্গিপাড়ায় গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ২

11 Sep 2026, 22:43 · News Desk

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সন্তানদের নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর হামলায় ওই নারীর দুটি দাঁত ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি গোপনাঙ্গে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে গত ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া খানকা মাদ্রাসা এলাকায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ ও চলমান মামলার কারণে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা রাতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এ সময় সন্তানদেরও দূরে সরিয়ে দিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন—আকবর এবং পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সোহাগ কাজী।
ঘটনার একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত আকবর ও সোহাগ কাজীকে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তাদের মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী জানান, ঘটনার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।